- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
শুরুতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল বার্সেলোনা। তবে ম্যাচের বাকি সময়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঠে এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের দাপট আরও স্পষ্ট করল কাতালান ক্লাবটি। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচেই জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে বার্সেলোনা। তবে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও প্রথমে গোলের দেখা পায়নি সফরকারীরা। উল্টো ২৮ মিনিটে অ্যালেক্সি বাত্রাকভের গোলে এগিয়ে যায় গালাতাসারাই। স্বাগতিকদের সেই লিড অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জোয়াও ক্যান্সেলোর গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা।
বিরতির পর পুরোপুরি আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ফ্লিকের শিষ্যদের। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। ৫০ মিনিটে ফেরমিন লোপেজের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই তাঁর প্রথম গোল। এরপর ৬৫ মিনিটে করিম আদেয়েমির গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১।
ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনার আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল গালাতাসারাই। সপ্তম মিনিটে দানি ওলমোর একটি প্রচেষ্টা প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। পরে পেদ্রির বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গর্ডনও গোলের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সফল হননি। ওলমোর আরেকটি হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এরপর ম্যাচের গতির বিপরীতে গিয়ে গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। ২৮ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের বাড়ানো বল থেকে বাত্রাকভের শট জোয়াও ক্যান্সেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। তিন মিনিট পর গালাতাসারাই আবারও গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে চাপ বাড়াতে থাকে বার্সেলোনা। ৪৩ মিনিটে দানি ওলমোর শট অ্যান্থনি গর্ডন ছেড়ে দিলে পেছন থেকে এগিয়ে এসে বল জালে পাঠান ক্যান্সেলো। তাতে সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় বার্সেলোনা। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরে আসা বল পেয়ে লামিনে ইয়ামাল বক্সে ক্রস করেন। কাছ থেকে হেডে গোল করেন ফেরমিন লোপেজ। তিন মিনিট পর ইয়ামালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানে ব্যবধান বাড়ে। পেদ্রির পাস পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে সতীর্থ গর্ডনকে বাড়িয়ে দেন তিনি। গর্ডনের শটে স্কোরলাইন হয় ৩-১।
৬৫ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন জার্মান ফরোয়ার্ড করিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল তাঁর সামনে এলে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান তিনি। এরপরও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন রোলান্ড সালাই। পরে ইয়ামালের পাসে জেসুসের শটও ঠেকিয়ে দেন গালাতাসারাইয়ের গোলরক্ষক উগুরজান চাকির।
পরিসংখ্যানেও ম্যাচে বার্সেলোনার আধিপত্য স্পষ্ট। বল দখলে তাদের হার ছিল ৭১ শতাংশ। গোলের জন্য ২২টি শট নিয়ে ১১টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে দলটি। বিপরীতে গালাতাসারাইয়ের পাঁচটি শটের মধ্যে তিনটি ছিল লক্ষ্যে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে দুই ম্যাচ শেষে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা নয়। এর আগে প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল কাতালানরা। টানা সাফল্যের এই ধারায় এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ পাচ্ছে ফ্লিকের দল।