- ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। পটুয়াখালী
দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদারের পদ স্থগিত করেছে জেলা বিএনপি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) পৃথক চিঠির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। সিদ্ধান্তটি ৭ অক্টোবর থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই দুই নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। তবে পৃথক চিঠিতে ঠিক কোন কোন কর্মকাণ্ডের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
তবে দলীয় সূত্র ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দুই নেতাকে ঘিরে আলাদা দুটি বিষয় সামনে এসেছে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন একটি জমি বিরোধের ঘটনায় দলীয় কার্যালয়ে সালিশের নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা বিএনপি। মতিউর রহমান পরে জানান, দুই পক্ষকে বসিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া তাঁর ভুল ছিল এবং তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে এ অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে চুন্নু তা অস্বীকার করে শিশুটির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলেন। পদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা দলের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেই। তিনি বিএনপির সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতি-আদর্শের বাইরে গিয়ে কেউ কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নেতার সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে দলের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দুই নেতার পদ স্থগিতের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে জেলা বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।