- ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি এলাকায় ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পিকআপচালক ও হেলপারকে মারধর এবং গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ সিগারেট লুটের মামলায় প্রধান আসামি হৃদয়কে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও ৭-এর যৌথ দল। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এসআরবি-৯।
গ্রেপ্তার হৃদয় চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার তুলাতুলি বস্তি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. মাসুদ। মামলার এজাহারে তাঁকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এসআরবি-৯-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোতোয়ালি থানার কাজীর দেউড়ি এলাকার এসএ পরিবহণের কার্যালয় থেকে ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও তাঁর অংশীদারদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি সিগারেট একটি পিকআপে করে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।
পিকআপটি লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রল পাম্পের কাছে পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র হাতে একদল ব্যক্তি গাড়িটির পথ আটকে দেয়। পরে তারা পিকআপচালক মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে চালক ও হেলপারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চালক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাঁকে কিল-ঘুসি ও লাথি মেরে আহত করে। এ সময় হেলপার মো. জাহিদ বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে চাঁদার টাকা না পেয়ে হামলাকারীরা পিকআপে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ সিগারেট অন্য একটি অজ্ঞাত গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার পর ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এসআরবি-৭-এর সিপিএসসি, চট্টগ্রামের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ দল অভিযান চালায়।
অভিযানের একপর্যায়ে ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদর ইউনিয়নের তিতাস গ্যাস ফিল্ডের সামনের পাকা সড়ক থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৯ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হৃদয়কে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।