- ২১ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বরিশাল
বরিশালের মুলাদীতে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের প্রায় ছয় মাস পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার ও কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের মো. আসলাম ভূঁইয়া (৩০) ও মো. সজিব (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির সামনের সড়ক থেকে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নানা কৌশলে তাঁকে অপহরণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় থেকেই আসলাম ভূঁইয়া ওই কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। অপহরণের দিন আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় কিশোরীকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সন্ধান চাইলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে কিশোরীকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।
কিশোরীর বাবা জানান, মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে ২৪ এপ্রিল তিনি মুলাদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২ মে মামলা করতে থানায় গেলে তাঁকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম মামলাটি আমলে নেন। একই সঙ্গে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে ১ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এতে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, এসআরবির সহযোগিতায় অপহরণ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।