- ২১ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না থাকলে জামায়াতে ইসলামীকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে জামায়াত নেতাদের বক্তব্যের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জামায়াতের অধিকাংশ সংসদ সদস্য অতীতে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রমের প্রভাব তাঁদের সংসদ সদস্য হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে রাজপথের রাজনৈতিক বক্তব্য ও পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁদের অনভিজ্ঞতা প্রকাশ পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের আমিরের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, সরকারের বিষয়ে বিরোধী দলের নেতাদের কিছু মন্তব্য জনমনে হাস্যরসের সৃষ্টি করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সমন্বয় প্রয়োজন, জামায়াত তা যথাযথভাবে ধারণ করতে পারছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিরোধীরা যেভাবে বক্তব্য দিতেন, জামায়াত নেতারাও এখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ আমলের বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য অনুসরণ করতে গিয়ে জামায়াত নেতারা অনেক সময় নিজেদের বক্তব্যের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন।
বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে ‘পালিয়ে যাবে’, ‘লুঙ্গি থাকবে না’ কিংবা ‘হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখুন’ এ ধরনের বক্তব্য না দেওয়ার জন্য জামায়াত নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, এমন বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের হাসির পাত্রে পরিণত করা উচিত নয়।
পোস্টের শেষাংশে বিএনপির ক্ষমতায় থাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি লেখেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে ‘শকুনের মতো ঠুকরে ঠুকরে ছিঁড়ে খাবে’।
রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিক্রিয়া পড়েছিল। তবে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য উল্লেখিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।