- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ সাংবাদিকদের জানান, কারখানার সাততলা ভবনের দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ইনজেকশনসহ বিভিন্ন জরুরি ওষুধ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ বেশ জটিল হয়ে ওঠে। আগুনের ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দেয়।
তিনি বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ এবং ভবনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের আহত কর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান মহাপরিচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী শিল্প এলাকার স্কুইব রোডে অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ইউনিট-২-এর সাততলা ভবনের চতুর্থ তলায় বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন কর্মীরা। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
খবর পেয়ে টঙ্গী, সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নেভানোর কাজে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কর্মীরাও অংশ নেন।
আগুনের ঘটনায় কারখানাটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ঘটনাস্থল ঘিরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে।
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বাদল বলেন, কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহায়তা নিতে হয়।