- ২০ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালীতে খতিয়ানভুক্ত জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর একাধিকবার হামলার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী মাহমুদুল্লাহ ও তাঁর স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠায় জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ফকিরাঘোনা এলাকার মৌলভী আনছুর আলী পাড়ায়। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় ছাবের মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মাহমুদুল্লাহ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তাঁদের পরিবারের দখলে রয়েছে। সেখানে বসবাসের পাশাপাশি গাছপালা লাগিয়ে তাঁরা জমিটি ভোগ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, এ নিয়ে একাধিকবার মহেশখালী থানায় যোগাযোগ করা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং জমিতে ঘর নির্মাণ করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ওপর তিন দফায় হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে বন্দুক, দা ও কিরিচ নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন মাহমুদুল্লাহ।
ওই হামলায় তাঁর বাম হাতের কবজি ভেঙে যায়। তাঁর ৪৮ বছর বয়সী ছোট ভাই রহমত উল্লাহর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর কানের পর্দা ফেটে গেছে বলেও দাবি করেছে পরিবারটি।
এ ছাড়া হামলাকারীরা বাড়িঘর ও বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ তাঁদের। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আহতদের কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা চলাচলে সমস্যার মুখে পড়েছেন।
জমির বিরোধ মীমাংসার জন্য পুলিশের উপস্থিতিতে বৈঠক হলেও সেখানে সমাধানের পরিবর্তে জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা অথবা জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন মাহমুদুল্লাহ।
এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সহসভাপতি মকছুদু আলম নিরুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নেজাম উদ্দিনের নামও সামনে এসেছে। মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, নেজাম উদ্দিন বৈঠকে তাঁকে ওই প্রস্তাব দেন। এ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নেজাম উদ্দিন বলেন, ছাবের পক্ষের লোকজন তাঁকে বিরোধ মেটানোর জন্য টাকার বিষয়ে কথা বলতে বলেছিলেন। তাঁদের হয়ে তিনি কথাটি বলেছেন, তবে এ বিষয়ে তাঁর নিজের কোনো দাবি-দাওয়া নেই।
অন্যদিকে মকছুদু আলম নিরু চাঁদাবাজি কিংবা অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের হয়ে তিনি থানায় যাননি; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ তৈরির জন্য ছাবের ও তাঁর সহযোগীরা জাল স্ট্যাম্প তৈরি করেছেন। ওই স্ট্যাম্প দেখিয়েই জমির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠা এবং টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
বিতর্কিত স্ট্যাম্পে আমান উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আমান উল্লাহ বলেন, তাঁর বাবা আবদু রশিদসহ সংশ্লিষ্ট মালিকদের কাছ থেকে জমিটি কেনা হয়েছে। তাই ছাবের পক্ষের কাছে তাঁরা কোনো স্ট্যাম্প দেননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, স্ট্যাম্পটি জালভাবে তৈরি করা হয়েছে।
বিষয়টি যাচাই করতে ছাবের পক্ষের সঙ্গে বসার চেষ্টা করলেও তাঁরা সালিশে উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করেন আমান উল্লাহ।
এদিকে অভিযুক্ত ছাবের মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর পক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান বলেন, সালিশ বৈঠকে ছাবের পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে একটি স্ট্যাম্প দেখিয়েছে। অন্যদিকে মাহমুদুল্লাহর কাছে খতিয়ানভুক্ত জমির মালিকানার রেকর্ড রয়েছে।
তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা এখনো থানায় এজাহার দেননি। এজাহার পেলে অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে জমির মালিকানা, স্ট্যাম্পের সত্যতা এবং হামলার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।