Saturday, October 10, 2026

‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে উত্তেজনা, আমতলীতে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ


ছবিঃ নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। বরগুনা

বরগুনার আমতলীতে কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকিরের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের পরিবারের দাবি, তাঁর নির্দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁদের ধরে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখেন। পরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তাঁদের আমতলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনাটি ঘিরে কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার পর অনেকে নিরাপত্তার আশঙ্কায় এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে আমতলী উপজেলার মহিষকাটায় ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন এবং আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি মো. মাহবুবুল আলমসহ অন্য অতিথিরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এর জের ধরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে কলেজ শাখার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জুমার নামাজের পর চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিমকেও তুলে নেওয়া হয় বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থী আসিফের পরিবারের অভিযোগ, চারজনকে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং সেখানে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। রাত ৯টার দিকে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।

সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর ছেলেকে মহিষকাটা এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গেছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়াও দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুব এবং জালাল ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকিরের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী সাইফুল কাজী ও সুজাকে নিয়ে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কলেজ ও মসজিদের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। তবে তাদের দাবি, সে সময় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। তাঁর দাবি, দলীয় নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ধরে এনে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার তাঁদের আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক কোনো তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন