- ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
যুক্তরাজ্যের জাতীয় নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান। আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। খেলাধুলার পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনোদনজগতেও পরিচিত আনিসার এই অর্জনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর বাংলাদেশি শিকড়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই অধিনায়ক হওয়ার খবর জানিয়েছেন আনিসা। পরে তাঁর বাবা, যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী ইয়াওর খানও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে আনিসার ক্রীড়াজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আনিসা খান পেশায় একজন কনসালট্যান্ট। পাশাপাশি তিনি পরিচিত খাবারের ব্র্যান্ড ‘বোম্বে পিৎজা’র প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি। ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরে ব্রিটিশ টেলিভিশনেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আনিসা। বিবিসি ওয়ানের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর ফাইনালে উঠে রানারআপ হয়েছিলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১৭ সালে কাবাডির সঙ্গে যুক্ত হন আনিসা। এরপর নিয়মিত অনুশীলন ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের জাতীয় নারী দলে জায়গা করে নেন। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপেও ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। এবার জাতীয় দলের নেতৃত্ব পাওয়ায় তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
আনিসার পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে। তাঁর বাবা ইয়াওর খান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে রেস্তোরাঁ ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে পরে আবাসন খাতে সফলতা অর্জন করেন তিনি। যুক্তরাজ্যে ‘এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত ইয়াওর খান। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনিসা সবার ছোট।
আগামী ২৩ অক্টোবর আহমেদাবাদে শুরু হবে এবারের কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ। আয়োজনে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডসহ মোট ১৪টি দেশের জাতীয় দল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামবেন আনিসা।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণীর নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের নারী দল কেমন করে, এখন সেই অপেক্ষায় কাবাডিপ্রেমীরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আনিসার এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও গর্বের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।