- ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে থাকা ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করাকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকের পর চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ১৯৭৭ সালে পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, সেখানে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে নতুন চুক্তিতে সেই ধারা রাখা হয়নি। এবার আলোচনায় ওই গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি করা প্রয়োজন। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে এবং আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে বাংলাদেশ।
পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের শুরুতে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তব কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ এর সুফল পাবে। পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার বিষয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
তিস্তা বহুমুখী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সরকার এগোচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাই করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা নদীর প্রকৃতি ও উজান থেকে পানির প্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হওয়ার পরই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে একই বছরে মূল প্রকল্পের কাজ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেশের মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নদী দুটির তীরবর্তী এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পদ্মা ব্যারাজের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দীর্ঘ সময় লেগেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এর স্টাডি সম্পন্ন করতে সময় লেগেছিল। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগোয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করে কাজ শুরু করেছে।
তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিয়েই সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগোতে চায়।