Wednesday, October 21, 2026

বাংলাদেশ-নেপালে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপ, ২১ জানুয়ারি মাঠে নামবে বাংলাদেশ


ছবিঃ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ আয়োজনে আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসর। বুধবার (২১ অক্টোবর) ১৬ দলের এই টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগামী ২১ জানুয়ারি সিলেটে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপের লড়াই। আর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে।

১৬ দিনের এই প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে তিন শহরের চারটি ভেন্যুতে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে অধিকাংশ ম্যাচ। সূচি অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ১৪টি, সিলেটে ১২টি, নেপালের মুলপানিতে আটটি এবং কীর্তিপুরে সাতটি ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে।

উদ্বোধনী দিনে সিলেট ও মুলপানিতে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা ও দুপুর দেড়টায় শুরু হবে খেলা। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য রাখা হয়েছে অতিরিক্ত দিন।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৬টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নাইজেরিয়া। স্বাগতিক বাংলাদেশ ২১ জানুয়ারি আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে। এরপর ২৩ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া এবং ২৫ জানুয়ারি নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে।

‘এ’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে রয়েছে সহ-আয়োজক নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সামোয়া। অন্যদিকে ‘ডি’ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ড।

গ্রুপ পর্বের খেলা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। চার গ্রুপের প্রতিটি থেকে তিনটি করে দল সুপার সিক্সে জায়গা পাবে। বাকি চারটি দল খেলবে প্লে-অফ ম্যাচে।

সুপার সিক্সে মোট ১২টি দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ দলগুলো থাকবে প্রথম গ্রুপে। ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রুপের দলগুলো খেলবে দ্বিতীয় গ্রুপে।

এই পর্বে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে। তবে সুপার সিক্সে নিজেদের গ্রুপের আগের ধাপের সব দলের বিপক্ষে নতুন করে খেলার সুযোগ থাকবে না। অন্য গ্রুপ থেকে উঠে আসা দলগুলোর বিপক্ষে নির্ধারিত দুটি ম্যাচ খেলতে হবে। গ্রুপ পর্বে সুপার সিক্সে ওঠা দলগুলোর বিপক্ষে অর্জিত পয়েন্টও পরের ধাপে যুক্ত হবে।

ফলে গ্রুপ পর্বে ভালো ফল করার পাশাপাশি সুপার সিক্সে ওঠা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অর্জিত পয়েন্ট ধরে রাখাও দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। দুই সুপার সিক্স গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে।

সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেমিফাইনালের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত দিন রাখা হয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে ৬ ফেব্রুয়ারি, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায়। ফাইনালের জন্য বিকল্প দিন হিসেবে ৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরা এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশ ও নেপালে এই আসর আয়োজনের মাধ্যমে নারী ক্রিকেটের বিস্তার আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য এই বিশ্বকাপ ঘরের মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ। সিলেটে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে সুপার সিক্সে জায়গা করে নেওয়াই হবে স্বাগতিক দলের প্রথম লক্ষ্য। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে হলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিকল্প থাকবে না।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন